প্রকাশের খবর পেতে সাবস্ক্রাইব
ভূত-জগতের কাল্পনিক ব্রেকিং নিউজ।
নতুন বাংলা অ্যাবসার্ডিস্ট ভূত-কমেডি • ২০২৬

মরে গেলেও
প্যারা মরে না।প্যারার ইঞ্জিন স্টার্ট নেয় মাত্র।ভূত, আইএলটিএস, বিসিএস, বিয়ে—আর ভূত-জগতের সিস্টেম।

হাবলু ভেবেছিল মরে গেলে অন্তত শান্তি পাবে। ভুল। ভূত-জগতেও আছে পোস্টিং, ইংরেজির স্কোর, শ্বশুরের অডিট, ভেজাল, সিন্ডিকেট—এবং দুর্ভাগ্যবশত, বিয়ে। আর অতি অবশ্যই, বউয়ের ঝাড়ি।

হাবলু ভূতের বিয়ে বইয়ের প্রচ্ছদ
কভার ইমেজ ফাইলটি
Assets/hablu-book-cover.webp
পাথে রাখুন
লাইভ ডেড কাউন্টার( ভূতেদের জন্য)

আনুমানিক ভূত-জগৎ জরিপ (সম্পূর্ণ কাল্পনিক, নিছক মজার জন্য)

এই মুহূর্তে সাইটটি ব্রাউজ করছেন

20,345 জন ভূত, 8,712 জন পেত্নী, 63 জন রাক্ষস, 41 জন দৈত্য, 35 জন শাঁকচুন্নী আর মাত্র 57 জন মানুষ। হায়, মানুষের বড়ই আকাল।

ভূত দুনিয়ায় আজ নতুন ভূত যোগ হয়েছে0স্টক যাচাই-বাছাই ও আপডেট চলছে
পুরুষ ভূত স্টক (সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত)0গাছের ডাল সংকট তীব্র
পেত্নী স্টক0পেত্নী মজুদের শাস্তি: পেত্নীদের সাথে বিয়ে দিয়ে দেওয়া।
মানুষ অনলাইনে0সংরক্ষণ জরুরি (বিলুপ্ত-প্রায় প্রজাতি)

উপভোগ করুন

প্রথম অধ্যায়: কলার খোসা ও জীবনের উইন্ডোজ

২য় অধ্যায় ইমেইলে পাবেন। মোট ৩৮টি অধ্যায় ও ১৭৬+ পৃষ্ঠা রয়েছে।

The Story

কলার খোসায় চিৎপটাং।
ভূতজীবনের যাত্রা কেবল শুরু।

টিকটকে ভাইরাল হতে গিয়ে কলার খোসায় পিছলে পটল তুলে সোজা পরপারে এন্ট্রি নেয় হাবলু—সদ্যোজাত, সহজ-সরল এক জেন-জি ভূত। সে ভেবেছিল, মরে গেলে অন্তত শান্তিতে বাতাসে ভাসবে। কিন্তু ভূত সমাজেও ভালো গাছে পোস্টিং পেতে আইএলটিএস লাগে, আর তার ইংরেজির দৌড় সলিড ৩.০ পর্যন্ত।

এদিকে ৭.৫ স্কোরের স্মার্ট পেত্নী-বউ নিলুর আল্টিমেটাম, শ্বশুরের ‘মর্যাদা খতিয়ান’-এ মাইনাস ১৪৭, আর সামনে কর্কট ভূত, মিস্টার জিরো, ভেজাল দীর্ঘশ্বাস, ‘কানাডিয়ান পেত্নী’ ও ব্যাটারি-চালিত চাইনিজ ভূতের বাজারদখল। হাবলু কি টিকে থাকবে—নাকি ‘ত্যানা-ভূত’ ক্যাটাগরিতে নাম লেখাবে?

অপারেশন চাপিলা
কাফন-শ্রমিক ধর্মঘটে ইজ্জত রক্ষার মহাযুদ্ধ।
৪২০ ধারার ক্রাইসিস
আইনের ধারার ওপর ভূত বসে জাতীয় সংকট।
হলিউড হানিমুন
ঘুষখোর লাগেজ ও আন্তর্জাতিক বেইজ্জতি।
বোনাস লিক
শেষে ভূতদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ চ্যাট ফাঁস।
অর্ডার করুন

MEET THE CAST

চরিত্রদের সাথে পরিচিত হোন

ত্যানাপুরের এই জমজমাট দুনিয়ায় যাদের সাথে দেখা হবে বইয়ের পাতায়। কেউ সদ্যোজাত ভূত, কেউ ৭.৫ ব্যান্ডের পেত্নী, কেউ আবার বন্ধুত্বের নামে নিয়মিত জাতীয় সংকট সরবরাহ করে!

হাবলু

নায়ক • সদ্যোজাত ভূত

সততায় ব্যান্ড নাইন; কিন্তু ইংরেজিতে দৌড় সলিড ৩.০! জুম্মার পর টিকটক করতে গিয়ে বিচি কলার খোসায় পিছলে ‘কিউট ক্যাট’ ফিল্টার সমেত পরপারে এন্ট্রি। এখন নতুন জীবনে হাজারো প্যারা সামলাচ্ছে। বউয়ের ঝাড়ি, শ্বশুরের ইএমআই (EMI) আর ভেজাল সিন্ডিকেট সামলাতে সামলাতে তার ভূত-জীবন তেজস্ক্রিয়!

নিলু

পেত্নী-বউ • IELTS ৭.৫

স্মার্ট, গ্ল্যামারাস এবং তীক্ষ্ণভাষী। শাড়ি কুয়াশার তৈরি, আর স্ট্যাটাসের উচ্চতায় হিমালয় ফেইল। ভালোবাসে—তবে প্রয়োজন হলে আল্টিমেটামও দেয়। হাবলুকে দেওয়া তার লেটেস্ট আল্টিমেটাম: ‘হলিউডে ব্র্যাড পিটের বাথরুমে পোস্টিং না পেলে ঈদের পরেই ডিভোর্স!’

মিস্টার ডেথ

আত্মা রিসিভিং বস

নতুন আত্মাদের ডেলিভারি নেওয়ার সময় বাটন চেপে ‘Life.exe’ ক্র্যাশ করে দিয়ে মজা পান। হাবলুকে দেখেই তার প্রথম মন্তব্য ছিল—“ম্যাটেরিয়াল চার নম্বুরী চাইনিজ মাল। চালান বইতে ‘ডিফেক্টিভ প্রোডাক্ট’ হিসেবে এন্ট্রি করো!”

ডাক্তার ভূতচন্দ্র

ভূত হাসপাতালের চিকিৎসক

রোগ নির্ণয়ে সিদ্ধহস্ত। ভূতদের ভিটামিন-ডি-এর অভাব নিয়ে মারাত্মক চিন্তিত। তাঁর বিখ্যাত উক্তি—“ব্লাড প্রেশার জিরো বাই জিরো! আপনি সম্পূর্ণ সুস্থভাবে মৃত! কংগ্রাচুলেশনস! টেনশন হলে প্যারানরমাল সিটামল চুষে খাবেন।”

IELTS
2.0

বল্টু

বেস্ট ফ্রেন্ড • জাতীয় সংকট সরবরাহকারী

বন্ধুত্বে অটল, কিন্তু ইংরেজিতে ডাব্বা (IELTS ২.০)! যেখানে কোনো সমস্যা নেই, সেখানে পাঁচ মিনিটে সমস্যা বানাতে তার জুড়ি নেই। আন্ডারঅয়্যার থিওরি নিয়ে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান রাখে। তার ডিকশনারি অনুযায়ী, “Breast friend” মানে হলো—বুকের বন্ধু!

কর্কট ভূত

লোকাল মাফিয়া • ছায়া-সম্রাট

ভেজাল দীর্ঘশ্বাস আর নকল ‘চাপিলা ছায়া’র একচেটিয়া ব্যবসার নিয়ন্ত্রক—ভূত সমাজের আসল ছায়া-সম্রাট। ‘কানাডিয়ান পেত্নী’র লোভ দেখিয়ে স্পাউস ভিসা স্ক্যাম করার মাস্টারমাইন্ড।

মিস্টার জিরো

ফরচুন-৪২০ সিইও • গ্লোবাল মাফিয়া

ফরচুন-৪২০ কোম্পানির সিইও। ব্যাটারি-চালিত নিখুঁত চাইনিজ ডুপ্লিকেট ভূত ইম্পোর্ট করে গোটা বাজার দখলের নীলনকশায় ব্যস্ত।

গাম্ভীর্য ভূষণ চৌধুরী

শ্বশুর • মর্যাদা অডিট বিভাগ

বনেদি জমিদার ভূত, যিনি মাটি থেকে সাড়ে তিন ফুট শূন্যে ভাসেন। নিজস্ব ‘মর্যাদা খতিয়ান’ নিয়ে বসেন। জামাইয়ের ভালো কাজের কোনো পয়েন্ট নেই, কিন্তু ভুল করলেই স্কোর ঋণাত্মক! হাবলুর বর্তমান স্কোর শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মাইনাস ১৪৭ এবং সাত নম্বর মহাবিপদ সংকেত। জামাইয়ের স্কোর ঋণাত্মক হলেও অডিট বন্ধ হয় না—ইগোর কোনো অবসর নেই।

ভূত-জগতের মানচিত্র

ত্যানাপুরের গুরুত্বপূর্ণ ভূতুড়ে ঠিকানাগুলো — একনজরে। এটা গ্যারান্টিড গুগল ম্যাপ নয়—কারণ এখানে রাস্তা মাঝেমধ্যে নিজেই গাছ বদলায়। মার্কারে চাপ দিয়ে লোকেশন দেখুন। তবে হাবলু ভূতের দলকে আবার আপনার বাসা চিনিয়ে দিয়েন না। তাহলে আপনার বাসায় গিয়ে বউসহ স্থায়ী বাসা বাঁধতে পারে।

MEMORIES

হাবলুর বিয়ের অ্যালবাম

ভূত সমাজের সবচেয়ে আলোচিত বিয়ের কিছু ঝলক

বিয়ের বোনাস ফাইল

পেত্নীদের মেহেদি ডিজাইন ভোট

মানুষ ফুল-লতা আঁকে। পেত্নীরা একটু বাস্তববাদী—ওয়াই‑ফাই, মশা, মাকড়সার জাল আর ৪২০ ধারাও চলে। আপনার পছন্দ কোনটি?

“Wi‑Fi জাল”

সিগন্যাল গেলেও সম্পর্ক থাকবে।

“জোছনা-মশা”

দেনমোহর ৩,০০০ মশার সম্মানে।

“কিউট ভূত লতা”

ভয়ের চেয়ে রিলস-ফ্রেন্ডলি।

“৪২০ সিলমোহর”

বিয়ের আগে আইনি প্রস্তুতি।

ভোট দিন—আপনার পছন্দ এই ব্রাউজারেই মনে রাখা হবে; কোনো ভুয়া মোট ভোট দেখানো হবে না।
💛 গায়ে হলুদ বিভাগের ঘোষণা: “এই হলুদ অরিজিনাল, ভেজাল না—গ্যারান্টি দিতে চেয়েছিল তিনজন; তদন্তে তিনজনই গায়েব।”

QUOTABLE QUOTES

বাণী সমগ্র

বই থেকে বাছাই করা কিছু অমর বাণী — যা ভূত সমাজে হৈচৈ ফেলে দিয়েছে।

ভূতোলজি টেস্ট

ভূতোলজি টেস্ট: মরার পর আপনি কোন গ্রেডের ভূত হবেন?

তিনটি প্রশ্ন। উত্তর দিন সততার সঙ্গে—যদিও ভূত-জগতে সততার কোনো বালাই নেই।

প্রশ্ন ১

১. রাতে একা রাস্তায় কুকুর দৌড়ানি দিলে আপনার রিয়্যাকশন কী?

প্রশ্ন ২

২. ইন্টারনেট বা Wi‑Fi হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে কী করেন?

প্রশ্ন ৩

৩. কোনোভাবে আপনার IELTS স্কোর ৩.০ আসলে কী করবেন?

GHOST E-COMMERCE

মগডাল বাজার

“আপনার বাজার, গাছের ডালে—নিমিষেই!”
(ডেলিভারি চার্জ: ১ ফোঁটা রক্ত বা ৪টি দীর্ঘশ্বাস)

স্পাইডারম্যান আন্ডারওয়্যার

কনফিডেন্স ৪০০%। উড়তে পারবেন না; পড়ে গেলে গাছ দায়ী।

৫০ টাকা—ছেঁড়া নোট

ভূতুড়ে আরমানি আন্ডারওয়্যার

বিদেশি কাস্টমসে ইজ্জত বাঁচানোর emergency edition।

২ দীর্ঘশ্বাস + ট্যাক্স

JUST CHILL সিগনেচার কাফন

আল্ট্রা-লাইটওয়েট, প্রায় কিছুই নেই—তবু দাম আছে।

৩ গভীর দীর্ঘশ্বাস

VIBE CHECK নবজাতক কাঁথা

সদ্যোজাত ভূতের প্রথম সফটওয়্যার আপডেটের জন্য।

১ বোতল কুয়াশা

নাড়ি কাটার কাঁচি 2.0

গ্রাফিক্স কার্ড দুর্বল হলে কাঁচি নিজেই ঝাপসা হয়।

৬ ফোঁটা কান্না

ভূত জন্মদিনের কেক

মোমবাতি নেভে না; অতিথি আগে নেভে।

১ প্যাকেট অন্ধকার

শতবর্ষী লাভবাইট দই

টক স্বাদে ব্যাকটেরিয়াও সম্পর্ক ভেঙে দেয়।

আলোচনা সাপেক্ষে

খাঁটি কুয়াশার লিপস্টিক

লাগালে ঠোঁট দেখা যাবে না—রঙও না।

১ প্যাকেট অন্ধকার

জোছনার আইলাইনার

পূর্ণিমায় extra glow; অমাবস্যায় customer care বন্ধ।

২ মুঠো জোছনা

এন্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ফর পেত্নীস

খুশকি কমায়; চুল উড়ে গেলে warranty নেই।

৪ ছেঁড়া নোট

ভিটামিন-ডি কমপ্লেক্স ফর ভূতস

দুপুর ১২টার রোদে হাঁটার বিকল্প—সম্ভবত।

১ তাজা আফসোস

প্যারানরমাল সিটামল ৫০০mg

হার্ট রেট জিরো থাকলেও মাথাব্যথা তো মানুষসুলভ।

৬ ফোঁটা কান্না

ছায়াবাণী কমপ্লেক্স টিকেট

সিনেমার চেয়ে পাশের সিটের টেলিপ্যাথি বেশি entertaining।

১টি গোপন কথা

লালাউদ্দিন এন্ড সন্স মিষ্টি

কামড় দিলে মিষ্টিও “আঁআঁ” করতে পারে।

প্রতি পিস ১ দীর্ঘশ্বাস

ভূত-চা পাতা

দুধ লাগে না; কাপ নিজে থেকে কাঁপে।

৩ ছেঁড়া নোট

বিদেশি মাকড়সার জাল পর্দা

ইভেন্টে prestige বাড়ায়; দেশি মাকড়সা ক্ষুব্ধ।

৫০০ গ্রাম নিস্তব্ধতা

উড়ন্ত কার্পেট

দুই কার্পেটের সংঘর্ষে spare হাত free নয়।

সার্জ প্রাইসিং প্রযোজ্য

সুন্দরবনের খাঁটি কুয়াশা

লিচু ফুলের কাছ থেকে সংগৃহীত—প্রমাণ চাইবেন না।

১ বোতল = ২ আফসোস

১ নং প্রিমিয়াম তাজা দীর্ঘশ্বাস

জামানত, ঘুষ ও প্রেমভাঙা অনুষ্ঠানে ব্যবহারযোগ্য।

আজকের বাজারদর

ঘুঁটঘুঁটে অন্ধকারের প্যাকেট

লোডশেডিং ছাড়াই premium darkness।

১ আধখাওয়া পেন্সিল

সংরক্ষিত মধ্যরাতের নিস্তব্ধতা

কৌটায় খুললেই পাশের বাসার ড্রিল মেশিন বন্ধ মনে হবে।

৭ মিনিট নীরবতা

স্বয়ংচালিত ভূতুড়ে ক্রোকারিজ

খাওয়া শেষে নিজেই কলতলায় গিয়ে বসে থাকে।

২ কেজি জোছনা

ডিজাইনার কাফন-শাড়ি

পূর্ণিমা পার্টির premium drop। পকেট নেই, prestige আছে।

৳৫০,০০০ — ভূত মুদ্রা

মৃতসাগরের কাদা

ড্রাই স্কিনে লাগান; জীবিত হয়ে গেলে ব্যবহার বন্ধ করুন।

১ বয়াম

*সম্পূর্ণ কাল্পনিক বাজার। জীবিত মানুষের অর্ডার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেইজ্জত করা হবে।

LEAKED GHOST KITCHEN FILE

ভূত-কাচ্চির গোপন রেসিপি

তীব্র জনদাবির প্রেক্ষিতে হাবলু ভূতের বিয়েতে রান্না করা হাজি ফখরুল মিয়ার স্পেশাল ছমছমে ভূত-কাচ্চির গোপন রেসিপি লিক করা হলো।

Recipe

গোপন রন্ধন নথি • ফর্ম নং কাচ্চি-৬৬৬

হাজি ফখরুল মিয়ার স্পেশাল ‘ছমছমে ভূত-কাচ্চি’

সাধারণ মানুষের রান্না করা বারণ। সাহস থাকলে নিজ দায়িত্বে ডেকচির কাছে যান।

প্রস্তুতি২ প্রহর
রান্না৩ ঘণ্টা
পরিবেশন৫–৬ ভূত
বিশেষ সময়অমাবস্যার রাত

উপকরণ তালিকা

উপকরণপরিমাণ / গোপন নোট
কচি ভূত-খাসীর মাংস২ কেজি; মানুষের সবজি বাগান খেয়ে গালমন্দ শোনা খাসীর ফ্লেভার বেশি
দীর্ঘশ্বাসের বাসমতি চাল১ কেজি; পরীক্ষায় ফেল করা ছাত্র-ছাত্রীদের দীর্ঘশ্বাস দিয়ে ভাপানো
শতবর্ষী লাভবাইট দই২৫০ গ্রাম; কমপক্ষে ১০০ বছর মেয়াদোত্তীর্ণ
শুকনো আফসোসের গুঁড়ো২ টেবিল চামচ
মরা জোনাকির বাটা১ টেবিল চামচ; ন্যাচারাল glow-in-the-dark effect
পেত্নীর কান্নার জলপরিমাণমতো; লবণের বদলে, ইমোশন বাড়াতে
খাঁটি কুয়াশাআধা কাপ; কেওড়া জলের বিকল্প
পুরনো মাকড়সার জালডেকচির মুখ সিল করার জন্য

প্রস্তুত প্রণালি

  1. 01
    ম্যারিনেশন

    জং ধরা ডেকচিতে মাংস, শতবর্ষী দই, আফসোসের গুঁড়ো ও জোনাকির বাটা মাখান। মাংস ‘ম্যাঁ ম্যাঁ’ করলে ধমক দিয়ে চুপ করিয়ে ২ ঘণ্টা ঘুটঘুটে অন্ধকারে রাখুন।

  2. 02
    চাল প্রস্তুত

    দীর্ঘশ্বাসের বাসমতি চাল পেত্নীর কান্নার জলে ধুয়ে নিন। চাল যেন বেশি ইমোশনাল হয়ে গলে না যায়।

  3. 03
    লেয়ারিং

    মাংসের ওপর চালের স্তর দিন। মাঝে খাঁটি কুয়াশা ছড়িয়ে দিন—ঘ্রাণ শুঁকেই যেন অর্ধেক পেট ভরে যায়।

  4. 04
    দমে বসানো

    মাকড়সার জাল দিয়ে ডেকচি সিল করুন। জ্বালানি হিসেবে পুরনো রাগ বা শাশুড়ির ঝাড়ির আগুনে ৩ ঘণ্টা হালকা আঁচে দম দিন।

  5. 05
    পরিবেশন

    ঢাকনা খুলে বিকট ‘উউউউ’ শব্দ ও ধোঁয়া বের হলে রান্না পারফেক্ট। ওপরে ভয়মাখা সন্দেশ সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

শেফের বিশেষ সতর্কতা: হাড্ডি চিবানোর শব্দ নিজের দাঁত ভাঙার মতো মনে হলে ভয় পাবেন না—ভূত সমাজে এটা নরমাল। আশেপাশে ইঁদুর-ভূত বা কুকুর ফ্যামিলি ঘুরলে আগেই এক ডেকচি দিয়ে দিন, নইলে তারা আপনার পাতিল সাফ করে দেবে।

READER REACTIONS

পাঠক (ও ভূত) প্রতিক্রিয়া

★★★★★

“বইটা পড়ার পর আমার মরা গাছে বসে কাঁদতে ইচ্ছে করছে। এতো সুন্দর করে আমাদের বেইজ্জতি করা হয়েছে যে আমি পুরো মানব জাতির নামে ভূত-আদালতে মানহানির মামলা ঠুকে দিয়েছি!”

— এক কানাডিয়ান পেত্নী (আইইএলটিএস ৭.৫)

★★★★★

“বইটি পড়ে রাগে আমার বাবরী দোলানো চুল খাড়া হয়ে গেছে! আমি, সুলতান সুলেমান খাঁ, যার ভয়ে বাঘে-মহিষে এক ঘাটে অদৃশ্য জল খেতো—আমার রক্তমাখা শমসের তলোয়ারে যে পিচ্চিটা ‘হ্যালো কিটি’ স্টিকার লাগিয়েছে, লেখক তাকে ধরিয়ে দিলে আমি নগদ ৫০ হাজার বাসি দীর্ঘশ্বাস বাউন্টি দেবো!”

— সুলতান সুলেমান খাঁ (মোঘল সেনাপতি ভূত)

★★★★★

“প্যারিস থেকে ফেরার পথে হাবলুর ব্যাগের চেইনের ভেতর সুইস চকলেটের পাশে আমি কড়া ফ্রেঞ্চ পারফিউমের গন্ধ পেয়েছি! আমার স্বামী-লাগেজটা যে প্যারিসে গিয়ে কোনো ফ্রেঞ্চ পেত্নীর সাথে প্রেম করেনি, তার গ্যারান্টি কী? আমি ডিভোর্স পেপার রেডি করছি! দুনিয়ার পুরুষ লাগেজদের কোনো বিশ্বাস নেই!”

— সিমসোনাইট (লাগেজ-ভূতের সন্দেহবাতিক স্ত্রী)

★★★★★

“গত তিনদিন ধরে আমার আদরের পার্সিয়ান বিড়ালটা ঘড়ঘড় করার বদলে ‘গেট ওট (GET OAT)’ বলে চিৎকার করছে। বইটা পড়ে বুঝলাম ভেতরে বল্টু ভূত আটকে আছে! প্লিজ কেউ ওকে বের করুন!”

— পার্সিয়ান বিড়ালের মালকিন

★★★★★

“কানাডিয়ান স্নো-হোয়াইট পেত্নীর লোভ দেখিয়ে স্পাউস ভিসার ফাইল ড্রপ করার আইডিয়াটা রীতিমতো জিনিয়াস! আমরা স্ক্যাম ধরতে ধরতে হয়রান, আর লেখক ভূতদের স্ক্যাম নিয়ে রীতিমতো কমেডি লিখছেন! লজ্জায় বেগমপাড়ার তাপমাত্রাই মাইনাসে নেমে গেছে!”

— কানাডিয়ান ইমিগ্রেশন অফিসার (ভূত শাখা)

★★★★★

“কাচ্চির রেসিপিটা ট্রাই করেছিলাম। ডেকচির মুখ খোলার পর বিকট ‘উউউউ’ শব্দ হয়ে ধোঁয়া বেরিয়ে এসেছিল। জাস্ট অসাধারণ, জাস্ট ওয়াও! তবে আমার দামান পার্টের অসুবিধা (পেট খারাপ) এখনো সারেনি।”

— রাক্ষস রফিক (প্রেতলোক ফুড ভ্লগার)

★★★★★

“আইইএলটিএস-এ ৩.৫ পেয়েও যে ভূত সমাজে ইজ্জত বাঁচানো যায়, তা এই বই না পড়লে জানতামই না। হাবলু ভাই আমার অনুপ্রেরণা! এখন আমি স্পিকিং প্র্যাকটিস করছি।”

— বেকার ভূত ৪২০

★★★★★

“আমি এই বইটা আমার হবু জামাইকে উপহার দিয়েছি, যাতে সে আগে থেকেই বুঝে যায় যে মৃত্যুর পরও শ্বশুরের প্যারা শেষ হয় না!”

— বদরাগী শ্বশুর ভূত

★★★★★

“বইটা পড়ে হাসতে হাসতে ভূতদের হাড়গোড় নড়ে যাচ্ছে। আমি সব পাঠককে সতর্ক করছি—হাসির চোটে যেন ক্যালসিয়াম ঝরে না পড়ে! বইটা পড়ার সময় অবশ্যই কড়া রোদে বসে পড়বেন এবং সাথে আমার দেওয়া ‘প্যারানরমাল সিটামল’ রাখবেন।”

— ডাঃ ভূতচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (এমডি: মাস্টার অফ ডুগডুগি)

★★★★★

“কাল রাতে ফাঁসির সেলে বল্টু নামের একটা মশা এসে কানের কাছে ‘হাঁউউউ’ করে খুব বিরক্ত করছিল। বইটা পড়ে বুঝলাম ওটা মশা ছিল না, ভাড়া-ভূত ছিল! স্যরি ভাই, কয়েল ধরানোর জন্য ক্ষমা চাই।”

— কেন্দ্রীয় কারাগারের কয়েদি (ওয়ার্ড নং ৪২০)

★★★★★

“This book is very danger! My breast friend Hablu leak my dummy's secret. But I am not sad. I give five stars in the midnight. Read the book water water!”

— বল্টু (IELTS ২.০)

কাল্পনিক প্রতিক্রিয়া • Hablu Universe — বাস্তব পাঠক-রিভিউ নয়।

সাধারণ প্রশ্ন

কেনার আগে যেসব প্রশ্ন ভূতেরাও করে

অবশ্য বোবা ভূতেরা এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম।

বইটি কোথায় পাওয়া যাবে?

ভূতদের দুনিয়ায় এটি তেঁতুল গাছের মগডালে বা বটগাছের ৭ নম্বর ডালে ছেঁড়া নোটের বিনিময়ে পাওয়া যাবে। তবে জ্যান্ত মানুষের জন্য প্রায় সকল উল্লেখযোগ্য অনলাইন বুকশপেই বইটি স্টক করা আছে (লিংকগুলো এই ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে)। ভূত সমাজের আরও স্ক্যাম আর হাঁড়ির খবর আগে পেতে ইমেইল নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন।

ডেলিভারি কত দিনে হবে?

সাধারণত দ্রুতই পৌঁছে যাবে। তবে পথে যদি 'কাফন শ্রমিক ইউনিয়ন' ধর্মঘট ডাকে বা ভূত-কাস্টমসে আপনার বইটি স্ক্যানারে আটকে যায়, তবে কিছুটা দেরি হতে পারে। টেনশন নেবেন না, হাবলু নিজে তদারকি করছে!

রিফান্ড বা রিটার্ন কীভাবে হবে?

বই রিটার্ন করার চেষ্টা করলে হাবলু ভূত এসে ঘাড় মটকাবে না (কারণ সে নিজে ভিতুর ডিম), উল্টো আপনার বিছানার পাশে বসে তার IELTS-এ ৩.০ পাওয়ার দুঃখে হাউমাউ করে কাঁদবে! সত্যিকারের রিফান্ড বা রিটার্নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের নিয়মই প্রযোজ্য হবে।

ইবুক থাকবে?

ভূত-বিটিআরসি'র টেলিপ্যাথিক নেটওয়ার্ক জ্যাম ক্লিয়ার হলেই প্রিন্ট সংস্করণের পাশাপাশি ইবুক বা পিডিএফ রিলিজ করা হবে। প্ল্যাটফর্ম ও দিন-তারিখ চূড়ান্ত হলে এখানে জানানো হবে। আপাতত হার্ডকপি কিনে নতুন বইয়ের ঘ্রাণ (বা আফসোসের গন্ধ) উপভোগ করুন!

ফ্রি কী পড়তে পারি?

ওয়েবসাইটে প্রথম অধ্যায় একদম ফ্রি! আর ইমেইল সাবস্ক্রাইব করলেই পেয়ে যাবেন ভূত-পরিবারের লিক হয়ে যাওয়া বিভিন্ন কেলেঙ্কারির উপাখ্যান এবং নির্বাচিত বোনাস অনু-গল্প! এর চেয়ে বেশি অধ্যায় দিলে হাবলু মাইন্ড খাবে এবং রাতে আপনার রাউটার অফ করে বসে থাকবে।

লাইভ কাউন্টার ও ভূত-রিভিউ কি সত্যি?

এগুলো খাঁটি স্যাটায়ার, স্রেফ আপনার বিনোদনের জন্য তৈরি! তবে কাউন্টারগুলোকেই আবার কাউন্ট করতে হলে যে স্পেশাল ভূত-স্ক্যানার লাগবে, সেটা স্বয়ং গ্লোবাল ভূত মাফিয়া মিঃ জিরোও খুঁজে পাননি। কাজেই হেসে উড়িয়ে দিন!

মুহাম্মদ মঞ্জুর হোসেনের ইলাস্ট্রেটেড পোর্ট্রেট

লেখক

মুহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন

নিজেকে একজন ভবিষ্যৎ ভূত এবং পার্ট-টাইম ফিলোসফার হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কোনো এক প্যারালাল ইউনিভার্সে তিনি দেশের প্রাচীনতম বটগাছে সিনিয়র ভয় প্রদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বাস্তব জীবনে তিনি বোতল-বন্দী ভূত বিষয়ক একটি দপ্তরে কর্মরত—যেখানে ফাইল নড়াচড়া করার চেয়ে বসকে দেখে ভয় পাওয়ার প্র্যাকটিস বেশি করেন।

তিনি বিশ্বাস করেন, পৃথিবীটা একটি বিশাল IELTS টেস্ট—যেখানে সবাই ‘ক্যাঁচক্যাঁচ’ শোনে আর উত্তর না জেনেই মাথা নাড়ে। ভূত দেখার জন্য অমাবস্যায় শ্মশানে যাওয়ার দরকার নেই; মাসের শেষে মানিব্যাগের ভেতরের দৃশ্যই যথেষ্ট।

সতর্কবার্তা: ঘাড়ের কাছে ফিসফিস শুনলে ভয় পাবেন না। হতে পারে লেখকের কোনো ছাত্র বা ছাত্রী স্পিকিং প্র্যাকটিস করছে। একটু ভয় পাওয়ার অভিনয় করুন—ওদের কনফিডেন্স বাড়ানো নৈতিক দায়িত্ব।
ফেসবুকে অনুসরণ করুন ↗নিজেকে বা প্রিয়জনকে গিফট করুন বইটি
প্রথম অধ্যায় • আরামদায়ক ফুলস্ক্রিন পাঠ মোড

অধ্যায় ১: কলার খোসা ও জীবনের উইন্ডোজ

"যে ভয় তুমি আজ দেখাতে পারো, সেই ভয় আগামীকালের জন্য ফেলে রেখোনা।"
— চাইনিজ ভূতুড়ে প্রবাদ (সম্ভবত ড্রাগন ভূতের বাণী)।

বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার টিকটক সম্রাট ওরফে গরীবের জাস্টিন বিবার—আমাদের হাবলুর জীবন-সিনেমার ক্লাইম্যাক্সটা এলো টিকটক দিয়েই। দিনটা ছিল শুক্রবার। জুম্মার নামাজের ঠিক পরপর।

বলা হয়, অক্কা পাওয়ার আগে মানুষ নাকি জীবনের হাইলাইটস দেখে—প্রথম হাঁটা, মায়ের হাতের পোলাও (এবং প্রথম ও সর্বশেষ ঝাড়ুর বাড়ি), প্রথম ক্রাশের রিজেকশন—সব নাকি ফোর-কে (4K) রেজোলিউশনে ভেসে ওঠে চোখের সামনে। সম্রাট হাবলুর পোড়া কপালে ওসব কিছুই জুটল না। তার জীবনের শেষ দৃশ্যটা ছিল মারাত্মক বেইজ্জতির।

দৃশ্যপটঃ একটি কলার খোসা। জাতঃ বিচি কলা (অথবা চম্পা, তবে হাবলুর অভিজ্ঞ চোখ বলছে বিচিই)। অবস্থান রাস্তার ঠিক মাঝখানে, যেন একটা ল্যান্ডমাইন—অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছে কখন হাবলুর ইজ্জত বার্স্ট করবে। মরার আগ মুহূর্তে হাবলু খোসাটার দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিল। কালো ছোপগুলো দেখে মনে হচ্ছিল—আস্ত একটা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ন্যাংটোপুটু হয়ে রোদে শুয়ে আছে।

হাবলুর পার্টনার-ইন-ক্রাইম, বন্ধু হিমেল ক্যামেরা তাক করে রেডি। স্ক্রিপ্ট সোজাসাপ্টা: হাবলু দৌড়ে আসবে, একটা ডিগবাজি দেবে, স্লো-মোশনে ল্যান্ড করবে। ক্যাপশন হবে—"Attitude Boy 007".

ল্যান্ডিং হলো। তবে ল্যান্ডিং গিয়ার কাজ করলো না।

ডান পা খোসায় পড়তেই ফিজিক্স তার সমস্ত সূত্র নিয়ে হাবলুর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল। এডিটিং দরকার পড়ল না, সময় থমকে গেল। হাবলু নিজেই স্লো-মোশনে শূন্যে ভাসল। হাত-পা ছুঁড়ল কিছুক্ষণ, যেন অদৃশ্য মশার সাথে কুংফু ফাইট করছে।

ঠিক সেই মুহূর্তে, প্রকৃতির অদ্ভুত খেয়ালে হাবলুর হাত থেকে ডাবল গ্রিনলাইন ওয়ালা ফোনটা ছিটকে গিয়ে তার মুখের সামনেই হাওয়ায় ভাসতে লাগল। ফোনের ফ্রন্ট ক্যামেরা অন ছিল। হাবলুর মৃত্যু-আতঙ্কমাখা মুখের ওপর অটোমেটিক ‘কিউট বিড়াল’ (Cute Cat) ফিল্টার অ্যাপ্লাই হয়ে গেল। হাবলুর শেষ এক্সপ্রেশনটা ছিল চরম ভ্যাবাচ্যাকার, কিন্তু ফিল্টারের কারণে স্ক্রিনে দেখা গেল—সে গোলাপি গাল আর বিড়ালের গোঁফ লাগিয়ে জিহ্বা বের করে ভিন্টেজ লুকে পোজ দিচ্ছে আর চুকচুক করছে।

আর ঠিক তখনই ব্যাকগ্রাউন্ডে বেজে উঠল চিরন্তন সেই মধুর বাণী, "ও টুনির মা, তোমার টুনি কথা শোনে না... ♪♫"। তারপর—

ধপাস!

শব্দটা ঠিক ‘ধপাস’ না, বরং যেন একটা আটার বস্তা ওপর থেকে পড়ল। হাবলু ‘আউচ’ বলতে চাইল, কিন্তু মুখ দিয়ে বের হলো শুধু বাতাসের শব্দ—‘ফুঁ...’।

পৃথিবীটা বনবন করে ঘুরতে শুরু করল। হিমেলের চিৎকার ভেসে এল: ভাই! কন্টেন্ট তো পুরাই আগুন! ভিউ মিলিয়নের ঘরে কনফার্ম। কিন্তু তুই উঠছিস না কেন? বিড়াল সেজে শুয়ে থাকাটা কি নতুন ট্রেন্ড? নতুন সিগনেচার পোজ দিলি নাকি?

আওয়াজটা ইকো হতে হতে মিলিয়ে গেল। হাবলু শেষবারের মতো আকাশ দেখল। নীল আকাশ। শকুনেরা উড়ছে না কেন? সিনেমায় তো নায়ক মরলে শকুন উড়ে, ব্যাকগ্রাউন্ডে স্যাড বাঁশি বাজে। ধুর—বাজেট কম, তাই মিউজিক ছাড়াই মরতে হচ্ছে। থুক্কু, ভুল। ‘টুনির মা’ ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজছে।

মিস্টার ডেথ এতোক্ষণ চরম বিরক্তি নিয়ে হাবলুর কান্ডকারখানা দেখছিলেন। সাথে তাঁর ’সিনিয়র আত্মা কালেকশন অ্যাসিস্ট্যান্ট’ (চলতি দায়িত্ব) রীতিমত পজিশন নিয়ে বসে আছে। চোখ হাতঘড়ির দিকে।

এবার ডাইরেক্ট অ্যাকশনের পালা। অ্যাসিস্ট্যান্ট ফিজিক্যাল বডি থেকে হাবলুর জানটা ‘কাট’ করে নিলো (কন্ট্রোল-এক্স)। পেস্ট করার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা নেই। সে ছোঁ মেরে জানটা নিয়েই বসের হাতে তুলে দিলো।

বস হাবলুর আত্মার দিকে এমনভাবে তাকালেন যেন পচা আলুর বস্তা দেখছেন।

এ কী আজব চিজ আনলে হে? বড্ড হালকা। ম্যাটেরিয়াল চার নম্বুরী। মনে হচ্ছে চাইনিজ মাল। চালান বইতে 'ডিফেক্টিভ প্রোডাক্ট' হিসেবে এন্ট্রি করো। ভ্যাট-ট্যাক্স বাদ দিলে কিছুই টিকবে না।

অ্যাসিস্ট্যান্ট করুণ মুখে মাথা নেড়ে বললো, ঠিকই ধরেছেন স্যার! মনে হচ্ছে রিসাইকেলড মাল দিয়ে বানানো। ধরার পর থেকে হাতে অ্যালার্জি হচ্ছে—চুলকাচ্ছে। একদম লস প্রজেক্ট। খামাখা ওভারটাইম খাটলাম। টিএ/ডিএ-ও তো উঠবে না!

এদিকে হাবলুর হৃদপিন্ড বেচারা দেখলো অবস্থা বেগতিক। টাশকি খেয়ে স্টার্ট বন্ধ করে বসে থাকলো। জীবনের ব্যাটারি ডেড, উইন্ডোজও ক্র্যাশ। ব্লু স্ক্রিন অফ ডেথ—গেম ওভার। ’ইনসার্ট কয়েন’ অপশন লাপাত্তা, বোধহয় পালিয়েছে। হাবলুর চোখের সামনে একটা পপ-আপ ভেসে উঠল: "Life.exe has stopped working. Send Error Report?" হাবলু ‘No’ চাপার আগেই—হঠাৎ সব অন্ধকার। বাত্তি ফিউজ।

~ অধ্যায় ১ সমাপ্ত ~

মানুষ ডিটেক্টেড!

দুঃখিত। মগডাল বাজার-এর সিকিউরিটি সিস্টেম বলছে আপনি এখনো জীবিত। এই পণ্য শুধু অনুমোদিত ভূত, পেত্নী ও সন্দেহভাজন আত্মাদের জন্য।

পণ্যের পেছনের কেলেঙ্কারি জানতে বইটি পড়ুন। নির্দিষ্ট অর্ডার লিংক live হলে এই বাটনটি আপডেট হবে।

নাম নথিভুক্ত হয়েছে!

আপনার ইমেইল সাবস্ক্রিপশন ফর্ম জমা হয়েছে। ২য় অধ্যায়, বোনাস মাইক্রো-স্টোরি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা আপডেট প্রস্তুত/চালু হলে এই ঠিকানাতেই পাঠানো হবে।

গুরুত্বপূর্ণ: আপনার ইনবক্সে কনফার্মেশন ইমেইল এলে, ভেতরের লিংকে ক্লিক করে সাবস্ক্রিপশন নিশ্চিত করুন। কিছু না পেলে Spam বা Promotions ফোল্ডারও একবার দেখে নিন।

যাওয়ার আগে, এক সেকেন্ড!

প্রথম অধ্যায় পড়া হয়ে গেলে, ২য় অধ্যায় আর এক্সক্লুসিভ মাইক্রো-স্টোরি বিনামূল্যে পেতে ইমেইলটা রেখে যান। প্রমিস, স্প্যাম করবো না—শুধু ভালো হাসির জিনিস পাঠাবো।

লিংক কপি হয়েছে